তাওহিদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য দ্বিশতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩৮৬ রান তুলে ৩০ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা। একপ্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও অবিচল থেকে ২৪২ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।
তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে এখনো ২৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
দিনের শুরুতে ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল বাংলাদেশ। আগের দিনের ২৯ রানে অপরাজিত তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে দুজনের ৭৩ রানের জুটি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখায়। তবে ৭৬ বলে ৩৪ রান করে মুশফিক বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এরপর দ্রুত ফিরে যান লিটন দাস (৮), মেহেদী হাসান মিরাজ (১৬) ও হাসান মাহমুদ (১)। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ে স্বাগতিকরা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়।
তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অষ্টম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন তিনি। এই জুটিতেই বাংলাদেশের ইনিংস ঘুরে দাঁড়ায়। ১৭১ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন হৃদয়। এরপর ৩০৪ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক। ৯১ রান করে তাইজুল আউট হলেও থামেননি এই ব্যাটার। শেষ উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গেও গড়েন কার্যকর জুটি।
শেষ পর্যন্ত ৩৫৯ বলে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রান করেছিলেন তিনি।
হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩০ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
এর আগে আমির জাঙ্গুর ১৩৩ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কেভিন উইকহ্যাম ৬১ এবং জাস্টিন গ্রিভস করেন ৫১ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।
৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষ চার ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে চতুর্থ দিন শুরুতে ২৩ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে তাদের সবকটি উইকেট।
হৃদয়ের ঐতিহাসিক ইনিংসে বাংলাদেশ ম্যাচে চালকের আসনে বসার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংই নির্ধারণ করবে ম্যাচের গতিপথ।
ক্রীড়া ডেস্ক